স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন- প্রাপ্তি আর আমাদের লজ্জা



আন্দোলন হল নিরাপদ সড়ক এর জন্য
-রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ পেল ৫টি বাস কলেজের সামনে রাস্তার নিচে একটি আন্ডারগ্রাউন্ড রাস্তা
-নিহত ছাত্র ছাত্রীদের পরিবার পেল ৪০ লক্ষ টাকা
- নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রস্তাব করা হয়েছে


- এখন যেগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে তার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ধন্যবাদ


এখন খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে- যে আইনগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তার কতটুকু বাস্তবায়ন হবে ?


হয়তঃ
১। ছাত্রছাত্রীরা ঘরে ফিরে যাবে
২। কিছু ছাত্রছাত্রী যারা জানোয়ারদের টার্গেট আসছে তাদের জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগবে
৩। ট্রাফিক পুলিশ ঘুষ খেয়ে লাইসেন্স ছাড়াই শত শত গাড়ী রাস্তায় চলতে দেবে
২। আবার দুই গাড়ীর প্রতিযোগিতার পর ছাত্রছাত্রী অথবা সাধারণ মানুষ মারা যাবে এবং মামলা হবে ড্রাইভার ঘুষ দিয়ে ফাঁসির কাস্ট থেকে রেহাই পাবে
৩।কিছু ব্যক্তি যারা লজ্জা আছে তাদের নিজেদেরকে সংশোধনের চেষ্টা করতেও পারে নাও করতে পারে
৪। জাবালে নূরসহ শত শত বাস ফিটনেস ছাড়াই রাস্তায় চলাচল করবে
৫। লেগুনা, জাবালে নুরসহ সিটি সার্ভিস এর ড্রাইভরা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে কারণ তাদের টার্গেট এখন ছাত্রছাত্রী যারা এসব আন্দোলন করেছে
৬। এভাবে চলতে থাকবে বাংলাদেশ


-কখন হবে আমার দেশ নিরাপদ-
যখন সবাই লজ্জা পাবে,বুজতে পারবে হ্যা আমরা যা করছি ভুল করছি, নিজেদের ভবিষ্যত অন্ধকারে  ঠেলে দিচ্ছি,নিজের পাপের অনুসূচনা করবে- আর দূর্নীতি বন্ধ করে সঠিক ভাবে আইন প্রয়োগ, আইন মানতে বাধ্য হবে। 

-এর আগে আমি আপনি কেউ নিরাপদ নই।-


চিন্তা করেন একবার, আমার এই দেশ কতটুকু নিচে নেমে গেছে- আমি শুধু ৪টি পয়েন্ট উল্লেখ করব-

* বাচ্চাদের জন্য চিপস, চকোলেট, গুড়ো দুধ আর বিভিন্ন সাধের জুইস,বেভারেজ তৈরী করা হচ্ছে এতেও ক্ষতিকারক ক্যামিকেল ব্যবহার করা হচ্ছে। একবারও চিন্তা করছে না যে এই জিনিসগুলো খেয়ে ছোট ছোট কোমলমতি বাচ্চাদের বড় কোন বড় ধরণের রোগ হবে কিনা, তারা অসুস্থ হবে কিনা, তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হবে কিনা। 

* যে ডাক্তার প্রতিনিয়ত মৃত্যু দেখে তার মৃত্যু দেখার কোন সমস্যা নেই, কাটা ছেড়া, অপারেশন করা এগুলো প্রতিদিনের কাজ, কিন্তু সে যে একটি শপথ করে ডাক্তারী পেশায় এসেছিল যে এই পেশাকে সেবার মানসিকতায় দেখতে হবে। কিন্তু সেই সেবা কি তারা দিচ্ছে আদৌ,
সরকারী হাসপাতালে তাদেরকে ১০ টাকা দিয়ে প্রেসক্রিপশন নিতে গেলে আর তার প্রাইভেট চেম্বারে ৫০০-১০০০ টাকা দিয়ে প্রেসক্রিপশন নিতে গেলে কতটুকু তফাৎ হয়ত সবাই জানেন।

মানবধর্ম হচ্ছে বড় ধর্ম অনেকেই মুখে বলে, মানবিকতাকে মুখেও লালন করে কিন্তু যখন শত শত রোগী টাকার অভাবে, আন্তরিকতা দিয়ে সেবার অভাবে মারা যাচ্ছে তখন ্আমাদের মানবিকতা মুখ থেকে ঢুক গিলে পেটে নিয়ে ভরে রাখি। শুধু কিছু শব্দ বলি- আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুক, যা হয়েছে ভালই হয়েছে, না হয় আরও কষ্ট পেত, “আমিন!”, মানুষ এত খারাপ হয় কেমন করে,

* আমরা ঔষধ খাই অসুখ সারানোর জন্য। কিন্তু সেই ঔষধ ই যদি হয় ভেজাল, শুধু আটা ময়দা দিয়ে ট্যাবলেট তৈরী করা এবং আরও মারাত্মক ক্যামিকেল, উপাদান দিয়ে তৈরী হওয়া এই ঔষধ খেয়ে আমাদের কতটুকু নিরাময় হবে। আমরা তো ঔষধের দাম দিয়ে দিচ্ছি। ঔষধ তৈরীকারক হাজার হাজার কোম্পানী এখন তাদের নিজেদের ঔষধ বাজারজাত করানোর জন্য কর্মসংস্থানের নামে হাজার হাজার বেকার যুবকদেরও চাকরী দিচ্ছে। ডাক্তারদেরকে  এসব ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লেখার জন্য লাখ লাখ টাকা কমিশন, বসুন্ধরা, ধানমন্ডিতে ফ্লাটসহ ডুপ্লেক্স বাড়ী গাড়ী উপহার দিচ্ছে। কিন্তু সেই ঔষধ এর গুণাগণ কতটুকু সঠিক ভাবে আছে কেউ কি একবারও চিন্তা করেছেন? কোম্পানীর কাজ ঠিকই করেছেন কোম্পানী বিভিন্ন উপাদান দিয়ে ঔষধ তৈরী করেছেন কিন্তু  এই ঔষধ মানুষের রোগের জন্য কতটুকু কার্যকর হবে সেটি কেউ একবারও চিন্তা করেনি। এই্ ঔষধের সাইডএফেক্ট কি পরিমাণে হবে তাও চিন্তা করছে না। আর এগুলো চেক করার জন্য সরকারী যে প্রতিষ্ঠান সেটির কথা আর কিই বা বলব। আপনারাই বুঝে নেন।

স্বাস্থ্য সেবার কথা বলে ঠকানো হচ্ছে মানবকতাকে হাসপাতালে, আইসিউতে রাখার নাম করে মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। 

-তাহলে আমার দেশের মানুষ কিভাবে নিরাপদ থাকবে?


* মানুষ যখন কোন সমস্যায় পড়ে তখন আইনজীবির কাছে যায়, বিচারপতির কাছে সঠিক বিচার আশা করে, পুলিশের কাছে যায় তার সমস্যাটা সমাধানের জন্য। আমার দেশের মানুষ কতটুকু সঠিক বিচার পাচ্ছে আপনি বলতে পারেন? লাখ লাখ মামলা এখনো পড়ে আছে পেন্ডিংয়ে। দুর্নীতির মারপ্যাচে পড়ে এখনো লাখ লাখ অসহায় মানুষ এক বেলা দু বেলা খেয়ে না খেয়ে কোর্ট বিল্ডিংয়ের ধারে ধারে ঘুরছে নিজেদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য। আর সেই সমস্যাকে পুঁজি করে, প্রোডাক্ত করে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকার গাড়ী বাড়ী দৌড়াচ্ছে কিছু অসৎ আইনজীবি, পুলিশ, বিচারপতিসহ ্এগুলোর সাথে জড়িত প্রত্যেকটি অফিসের অসৎ কর্মকর্তাগণ। 

তাহলে এসব অসহায় মানুষদের জন্য কতটুকু নিরাপদ এই দেশ। এরা তো প্রতিনিয়তই বলে- কেন রাস্তায় গাড়ীর নিচে চাপা পড়ে মরে যা্য় না।


এইসব প্রতিটি পেশায় আমাদের নিজেদের পরিবারের কেউ না কেউ জড়িত আছে। তাদের শুধু ধনসম্পদবাড়ী গাড়ী হলেই হবে আর কিছু লাগবে না। নিরাপত্তার কোন দরকার নেই তাদের।


আমরা প্রতিনিয়ত নামাজ পড়ে, কোরআন পড়ে, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, মসজিদে সেজদা দেয়, আর তওবা করি যে আর কখনো গুণাহ করব না- অন্যায় করব না, সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করব


এই গুনাহের মধ্যে কি পড়ে না দূর্নীতি, ঘুস নেওয়া, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া, হিংসা বিদ্বেষে পড়ে মানুষ খুন করা আর খুনীকে টাকার বিনিময়ে রেহাই দেওয়া, খাদ্যে ভেজার মেশানো,


যদি এই গুণাহের মধ্যে পড়ত, আমরা এসব গুণাহ থেকে বিরত থাকার জন্য নামাজ পড়ে, কোরআন পড়ে, নিজেদের সংশোধ করে নিতাম। তাহলে হয়ত আজ ছোটদের কাছে লজ্জা পেতে হত না, আমার ভাইদের জামা রক্ত মাখা লাল হত না।


না, আমরা তো জানি নামাজ পড়লে, কোরআন পড়লে জান্নাত লাভ করতে পারব, এটার সাথে আবার ঘুষের কি হিসাব, অন্যায়ের কি হিসাব, কাজ তো কাজই, সেটি যেভাবেই হোক আমার কাজ করে শুধু পকেট ভারী করলেই চলবে,
এভাবে শুধু আল্লাহকে ধোকা দেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়


আমরা চুরি করে মসজিদে গিয়ে লুকি পড়ি যাতে আমাদের ধরতে না পারে- এটাই আমাদের আসল চেহারা। সবাই শুধু নিজের পরিবারের কথা ভাবে, অন্যের পরিবারের কথা কেউ ভাবে না, মানবতা শুধু মুখে আছে, মনে প্রাণে, কাজে মানবতা নেই। থাকলে হয়ত আজ আমরা এভাবে আল্লাহকেও ধোকা দিতাম না। আমরা শুধু বেশ ভুশায় মুসলিম, কাজে কোথাও নিজেদের মুসলিম পরিচয় দিতে পারি না। ইসলামের জীবন বিধান কেউ মেনে চলি না। শুধু মুখে আল্লাহ আল্লাহ আর, সময় হলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কোরআন পড়ি, হাদিস পড়ি, সুন্দর সুন্দর কথাও বলি। বাস্তবে এগুলোর কিছুই আমরা মানি না


আমাদের ধর্মীয় ভাষা আরবি, কিন্তু অর্থ হচ্ছে জীবনের জন্য। জীবন বিধানের জন্য, ন্যায়ের পথে চলার জন্য, অন্যায় অত্যাচার, ব্যভিচার, ঘুষ, খুন রাহাজানি না করার জন্য। এসব কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য। কিন্তু আমরা শুধু কোরআন এর ভাষাটাকে বুকে আগলে রেখেই চলি। তা মানার চিন্তা কেউ করি না। তাহলে কিভাবে শান্তি আসবে

Comments